আদালতই খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে,সরকার নয় : প্রধানমন্ত্রী

সরকার নয়, আদালতই তাকে (খালেদা জিয়া) জেলে পাঠিয়েছে। এতিমের টাকা আত্মসাতের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) ১০ বছর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পেয়েও আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি। এটা নারী সমাজের জন্যই লজ্জা।’

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য নূরজাহান বেগমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। খবর বাসসের

তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেই কেবল নারীর ক্ষমতায়নও অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে দেশের নারী সমাজ তাদের স্বাধীনতা হারাবে এবং তারা পুনরায় নির্যাতন-নিগ্রহের শিকার হতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর নারীদের কি অবস্থা হয়েছিল। তারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর মতো ঠিক একই কায়দায় নারীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল।

সে সময় রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ বছরের ছোট্ট শিশুকে পর্যন্ত গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। অনেকে এই ধর্ষণের শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যাদের সিআরপিতে রেখে চিকিৎসা করতে হয়েছিল। বাংলাদেশে এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকলে এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিচরণ ও কাজ করার সুযোগ থাকলেই কেবল একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়।

আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনে তার সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার, উপনির্বাচন থেকে শুরু করে দেশে এই সরকারের সময় ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এসব নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি।

২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যারও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আবার পুনরায় ক্ষমতায় আসে তাহলেই দেশের নারীরা উপকৃত হবে এবং নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

মতামত দিন