এই পরাজয়ের ব্যাখ্যা কী?

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মধ্যেকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন জেসন হোল্ডার। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় টাইগাররা।একটু আর্দ্র উইকেট, ঘাস আছে, ফাস্ট বোলারদের সহায়তা করবে। কেন টস জিতে বোলিং নিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের ব্যাখ্যা শোনার কথা সাকিব আল হাসানের। না শুনলেই বা কী। উইকেট কেমন হবে, সেটি তো বাংলাদেশ আগেই ধারণা পেয়েছে। আগে ধারণা যদি পেয়ে থাকে, সে অনুযায়ী নিশ্চয়ই পরিকল্পনাও হয়েছে।

এই উইকেটে ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলারদের তোপ কীভাবে সামলাবে—সব পরিকল্পনা জানা-বোঝার পর অ্যান্টিগায় এটা কী করল বাংলাদেশ! বাংলাদেশ এই টেস্টে এখনো হেরে যায়নি। মাত্রই প্রথম দিন। আরও নির্দিষ্ট করে বললে মাত্রই এক সেশন শেষ হয়েছে। কিন্তু যখন সব লজ্জার রেকর্ডকে সঙ্গী করে একটা দলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১১২ বলে, ৯৯ মিনিটে, এই টেস্টের গতিপথ বুঝতে আর কী বাকি থাকে! ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, ব্যবহারে ক্লিশে বাক্যটার ওপর আস্থা রেখে তবু চোখ রাখতে পারেন অ্যান্টিগা টেস্টে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আজ যা করলেন, এর ব্যাখ্যা কী?

বাংলাদেশ দলের প্রধান ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ফিরে যান মাত্র ৪ রান করে। দলীয় ১০ রানের মাথায় কেমার রোচের বলে ডাউরিচ এর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান। তামিমের বিদায়ে দল যখন খাঁদের কিনারায় ঠিক তখনই বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকও ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। আউট হওয়ার আগে করেন মাত্র ১টি রান।

দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান যখন আউট হয়ে ফিরে যান ঠিক তখনই ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বোলারের নাম যে কেমার রোচ। আজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে তিনি এক আতঙ্কের নাম। তাই ফিরে যান মুশফিকও। রোচের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। মুশফিকের পর প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ ও সাকিব কেউই রানের খাতা খোলতে পারেননি। প্রথম ৫টি উইকেট একাই নেন কেমার রোচ।

রোচের তাণ্ডব শেষ হলে শুরু হয় কামিন্স ঝড়। আজ বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে, পাড়ার কোন ক্রিকেট দল ব্যাটিং করেছে। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে রোচ নেন ৫ উইকেট, কামিন্স ৩ ও হোল্ডার নেন ২ উইকেট।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন লিটন দাস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ রান করেন রুবেল হোসেন। শূন্য রানে আউট হয়েছেন ৪ জন।

মতামত দিন