নওয়াজ শরিফের ১০, তার মেয়ের মরিয়মের ৭ বছর কারাদণ্ড

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।। আজ শুক্রবার (৬ জুলাই) পাকিস্তানের অ্যাকান্টিবিলিটি কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।

ডন নিউজের খবরে বলা হয়, কারাদণ্ডাদেশের পাশাপাশি নওয়াজের ৮০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড ও মরিয়মের ২০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। আয়ের বিপরীতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার দায়ে তাদের এ সাজা দেয়া হলো।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

নওয়াজ ও মরিয়ম লন্ডনে অবস্থান করছেন। নওয়াজের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। এ কারণে নওয়াজ ও মরিয়ম এই রায় অন্তত সাত দিন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত আজই এই রায় ঘোষণা করলেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংসদ সদস্যপদ ও প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে। পাকিস্তানের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন-১৯৭৬ এর ৭৮ ধারায় মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়া ‘অসৎ চর্চা’ হিসেবে স্বীকৃত। আর একই আইনের ৮২ ধারায় তার জন্য শাস্তিবিধানের নির্দেশনা রয়েছে।

যে আইনে নওয়াজকে কাবু করা হয়েছে সেটা জেনারেল জিয়াউল হকের সময় করা হয়েছিল। ইসলামি নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে সেটা বানানো হয়েছিল। তবে এটাতে বিরোধীদের কাবু করার রসদ রয়েছে বলে মনে করেন আইনবিদরা।

তবে নওয়াজ শরিফের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়েসহ তিনি এখন লন্ডনে আছেন। নওয়াজের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে নওয়াজ শরীফের জামাতা সফদার আওয়ানকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নওয়াজ শরিফ এবং মরিয়ম নওয়াজকে ১০ দশমিক ছয় মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন নওয়াজ শরিফ। তবে এ ব্যাপারে এখনো তিনি কোনো রকম মন্তব্য করেননি।

 

প্রসঙ্গত, দুবাইভিত্তিক ক্যাপিটাল এফজেডই কোম্পানিতে চাকরির বিষয়টি ২০১৩ সালের নির্বাচনে মনোনয়নপত্রে উল্লেখ না করে পার্লামেন্ট এবং আদালতের সঙ্গে অসততা করায় নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। পরে পদত্যাগ করেন নওয়াজ।

মতামত দিন