বাংলাদেশ হাইকমিশন , এফআইসিসিআই’র যৌথভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) যৌথভাবে এফআইসিসিআই’র সম্মেলন কক্ষে ‘‘বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং দ্বি-পাক্ষিক বানিজ্যের উপর এর প্রভাব’’ বিষয়ে সম্প্রতি একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়ছেে। এছাড়াও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) ‘পলিটিক্যাল ইকনোমি অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে আরেকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।উভয় দুইটি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। ত্রসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক জনাব আবুল কালাম আজাদ, পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. খলিকুজ্জামান আহমেদ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ভারতের শিক্ষাবিদ ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ।

অনুষ্ঠান আলোচনা সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই বাংলাদেশে বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধাসমূহ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরন, বিশ্বমানের শিল্পায়ন ইকো-সিস্টেমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, economic zones, multimodal connectivity, জনসংখ্যাগত সুবিধা, মানবসম্পদের স্বল্পমজুরি সুবিধা, ভৌগোলিক অবস্থান, অস্ত্রব্যতীত সকল পণ্যের (ইবিএ) বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার, ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধা, উদার বিনিয়োগনীতি ও নলেজ ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গ্লোবাল ভ্যালুচেইন (জিভিসি) এর সাথে সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য অসীম সম্ভাবনা সৃষ্টি।

আবার অন্যদিকে, স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম মানবিকতা প্রদর্শন করে মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি ও আশ্রয় দিয়েছেন এবং বর্তমানে প্রায় ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে অবস্থান করছে। মিয়ানমার সরকার কর্তৃক সংগঠিত এই মানবিক বিপর্যয়ে রোহিঙ্গা জাতির পাশে দাঁড়িয়ে ১২০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। বিষয়টিকে একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সঠিকভাবে তুলে ধরেছে যা বিশ্ব নেতৃত্ব পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে উচ্চতর মর্যাদায় আরো নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মানবিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যদিও এর অগ্রগতি সীমিত। এফবিসিসিআই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের বেসরকারি খাতের সমর্থন চেয়েছে, যাতে তারা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এডভোকেসি করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের কাছে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, সার্বিকভাবে জনগণের কল্যানে দু’দেশের নেতৃত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে রাষ্ট্রীয় সফর, ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর, দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে সফর এবং দু’দেশের ব্যবসায়ীদের ধারাবাহিক বানিজ্যিক সম্মেলন ই এর প্রমান। ধারাবাহিক বানিজ্যিক সম্মেলন, সেমিনার এবং এক্সচেঞ্জ অফ ডেলিগেশন্সই নতুন করে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত। উভয় দেশই তাদের প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে গ্লোবাল ভ্যালুচেইন-এর সুবিধা নেয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার মনে করেন বক্তারা।

মতামত দিন