বিএনপিকে সুযোগ দেওয়ার ভারত কে

ভারত বিএনপিকে সুযোগ দেবে না- এইচ টি ইমামের এই কথার জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন দেশের সরকার পরিবর্তনে বিএনপিকে সুযোগ দেওয়ার ভারত কে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, এইচ টি ইমাম সাহেবকে বলতে চাই-ভারত সুযোগ দেওয়ার কে ? বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। সুযোগও দেবে বাংলাদেশের জনগণ। আপনার বক্তব্যে বোঝা যায়-বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের চাবিকাঠি ভারত। আর সে জন্যই প্রভুদের কাছে দেন দরবার শুরু করেছেন। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে প্রভুদের কাছে তাই এত আকুতি মিনতি করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আর সেই সুযোগ আপনাদের দেবে না।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। জনগণকে পাশ কাটিয়ে এদেশে আর কোনো ষড়যন্ত্রমূলক ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। আসলে এই এইচ টি ইমাম’রা কখনোই আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন না। এইচ টি ইমামদের ভূমিকা মিরন ও ঘষেটি বেগমের মতো।

গতকাল একটি দৈনিক পত্রিকায় নয়াদিল্লির একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন,‌ ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড কার্লাইলকে ভারতে ঢোকার অনুমতি না দিতে নয়াদিল্লিতে জোরালো সুপারিশ পাঠিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজিব ওয়াজেদ জয় এর কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা, ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের এখন কোন দলের মুখপাত্র?’
চলতি সপ্তাহের ১৩ জুলাই নয়াদিল্লি সফরে ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও কারাদণ্ডের বিষয়ে লর্ড কার্লাইলের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যদি ঢাকার হাই কমিশনের জোরালো সুপারিশের কারণে লর্ড কার্লাইলের ভিসা দেওয়া না হয়, তাহলে এটা প্রমাণিত হবে, বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ড দিতে হাই কমিশনের নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনের এই ভূমিকা দু:খজনক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আগ্রাসী হস্তক্ষেপ।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশের একটি ভোটারবিহীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ঔপনিবেশিক শাসকদের ন্যায়, যেন তারা বাংলাদেশে তাদের প্রতিভুদের টিকিয়ে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন যদি ঔপনিবেশিক শাসনের গভর্নর হাউজে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন ও সার্বভৌমত্ব অতি দুর্বল।

অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারত সফরে গিয়ে সেখানে একটি শীর্ষস্থানীয় ‘থিংক ট্যাংক’ এর আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বিএনপি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, বিএনপি হচ্ছে চীন ও পাকিস্তানপন্থী।’ এইচ টি ইমাম এর উদ্ভট বেহায়াপনায় বাংলাদেশিরা হতবাক ও স্তম্ভিত বলে জানান রিজভী।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় রাখতে সেখানে বিভিন্ন নীতি নির্ধারকদের কাছে নতজানু হয়ে লেজ নাড়িয়ে ভারতীয় কৃপা আদায়ের জন্য এইচ টি ইমামের মতো আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা এমন ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন যা বাংলাদেশে বিরল। এটি যেন মোড়লের কাছে নিজের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করা।

প্রধানমন্ত্রী নিজের বলেছেন-তিনি ভারতকে সবকিছু দিয়েছেন, প্রতিদান চান নি- এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এখন প্রতিদান পেতে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন সেখানে। এরা বিবেক, আত্মমর্যাদা, জাতীয়তাবাদী অহংকার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অপমানিত করে দিল্লীর দরবারে করুণা ভিক্ষা করছেন।

এইচ টি ইমাম হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘চলতি হাওয়ার পন্থী’। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন তিনি। যখন যে হাওয়া বয়ে যায় সেই হাওয়ার সঙ্গেই গা ভাসিয়ে দেন এই এইচ টি ইমাম সাহেবরা, বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

এইচ টি ইমাম কত বড় অনৈতিক হতে পারেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যিনি ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে বলেছেন-তোমরা বিসিএস পরীক্ষায় কেবল লিখিত পরীক্ষায় পাশ করো, আর মৌখিক পরীক্ষার দায়িত্ব আমার। বর্তমান এই দু:শাসনকে টিকিয়ে রাখার মূল হোতাদের একজন হচ্ছেন এই এইচ টি ইমাম। এরা নিজের পাতে ক্ষমতার ঝোল ঢালার জন্য আত্মা বিক্রি করতেও দ্বিধা করেন না।’

মতামত দিন